Monday, 24 April 2017

3 unsolved mystery on earth( ৩ অমীমাংসিত রহস্য)





প্রকৃতির ধর্মই হল রহস্য সৃষ্টি করা। পৃথীবির ইতিহাস এ এমন কিছু বিষয় আছে যার রহস্য এখন পর্যন্ত সমাধান হয় নি। আমি আজ ঠিক সেই রকম কিছু রহস্য নিয়ে আলোচনা করব।

নাজকা রেখা (nazca lines)

দক্ষিণ আমেরিকার দেশ পেরুর দক্ষিণাঞ্চলীয় নাজকা মরুভূমিতে প্রায় ১৯০ বর্গমাইল এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে আছে এই নাজকা রেখা। প্রত্নতত্ত্ববিদরা মনে করেন, মরুভূমির বুকে খোদাই করা এসব রেখা বয়সের দিক দিয়ে ইনকা সভ্যতার চেয়েও প্রাচীন_ অন্ততপক্ষে দেড় হাজার বছরের পুরনো। কিন্তু নাজকা জাতির লোকরা কেন, কোন উদ্দেশ্যে এত কষ্ট করে শত শত মাইলজুড়ে এসব রেখা এঁকেছিলেন সেটাই বোঝা যাচ্ছে না। স্বভাবতই, শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে এসব রেখা সম্পর্কে নানারকম গালগল্প ছড়িয়েছে; কেউ মনে করছেন, এটা ভিনগ্রহের আগন্তুকদের কাজ; আবার কেউ মনে করছেন, নাজকা জাতির লোকরা পানির উৎস নির্দেশ করতে মরুভূমির বুকে এসব রেখা এঁকেছিলেন। তবে যৌক্তিক ও বিজ্ঞানসম্মত কোনো ব্যাখ্যা না থাকায় নাজকা লাইন নিয়ে কল্পকাহিনী দিন দিন না কমে কেবল বেড়েই চলেছে।


এর মাঝে ১০০টির অধিক রেখা পুরোপুরি জ্যামিতিক রেখার সাদৃশ এবং আরো ৭০টির মত রেখা দ্বারা ফুল, পাখি, বাঁদর, মাকড়সা, মানুষের মাথা সহ বিভিন্ন প্রাণীর চিত্র আঁকা রয়েছে। এর মাঝে বৃহত্তম রেখাচিত্রটি প্রায় ২০০মিটার লম্বা। ১৯২৭ সালে, তোরিবিও মেহিয়া সিসপে নামক এক প্রত্নতাত্তিক ‘ফুটহিল’ পাহাড়ে ঘুরতে গিয়ে এই লাইন সর্বপ্রথম আবিষ্কার করেন। উল্লেখ্য যে, এই বিশালাকৃতির কারণে এই রেখাগুলো শুধুমাত্র আকাশপথ এবং ফুটহিল পাহাড়ের উপর থেকেই পরিষ্কারভাবে দেখা যায়।


এছাড়া,প্রত্নতত্ত্ববিদরা আরো মনে করেন, ৪০০ থেকে ৬৫০ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে এসব রেখা অঙ্কন করেছিলেন নাজকা জনগোষ্ঠীর সদস্যরা। ভূ-উপরিতলস্থ মাটি, বালু ও নুড়িপাথরকে সরিয়ে অগভীর নালার মতো তৈরি করার ফলে বেরিয়ে এসেছে এসবের নিচে থাকা সাদাটে-ধূসর মাটি। আর এভাবেই কখনও এঁকেবেঁকে আবার কখনও জটিল সব নকশা তৈরি করে এগিয়ে গেছে নাজকা রেখা। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই নালাসদৃশ এসব রেখা চার ইঞ্চি থেকে ছয় ইঞ্চি পর্যন্ত গভীর। এগুলোর মধ্যে মাইলের পর মাইল বিস্তৃত সরলরেখা যেমন আছে, তেমনি আছে নানারকম পশুপাখি, যেমন_ হামিংবার্ড, মাকড়সা, বানর, মাছ, হাঙ্গর, গিরগিটি ইত্যাদির প্রতিকৃতিও। বাদ যায়নি মানুষ, লামা বা জাগুয়ারের মতো প্রাণীও। আছে জ্যামিতিক নানা নকশা, ফুল এবং বৃক্ষের প্রতিচ্ছবি। সবচেয়ে বড় প্রতিকৃতিগুলো ৬৫০ ফুটের মতো লম্বা।


আগেই বলা হয়েছে, কী উদ্দেশ্যে মাইলের পর মাইল বিস্তৃত এসব নাজকা রেখা খনন করা হয়েছে তা নিয়ে নানারকম তত্ত্ব প্রচলিত আছে। বেশিরভাগ গবেষকই অবশ্য মনে করেন, এগুলোর তৈরির সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে ধর্মীয় কারণ জড়িত ছিল। কসোক ও রাইস যেমন জ্যোতির্বিদ্যা সংক্রান্ত তত্ত্ব দিয়েছেন তেমনি দক্ষিণ আমেরিকার অন্যান্য অঞ্চলের সংস্কৃতির তুলনা টেনে অনেকে মনে করেন, ইংল্যান্ডের স্টোনহেঞ্জের মতোই ধর্মীয় মহাবিশ্বতত্ত্বের অংশ হিসেবেই এসব রেখা খোদাই করা হয়েছে।

স্টোনহেঞ্জ(Stonehenge)

যুক্তরাজ্যের ওয়াল্টশায়ার কাউন্টিতে বিশাল সমতল ভূমিতে খাড়া পাথরের তৈরি এক বিস্ময়কর স্থাপনা রয়েছে। এটি ‘স্টোনহেঞ্জ’ নামে পরিচিত।স্টোনহেঞ্জ বানানোর ক্ষেত্রে মানা হয়েছে জ্যামিতিক নিয়ম। প্রায় ১৩ ফুট উচ্চতার ধূসর বর্ণের পাথরগুলোকে বিন্যস্ত করা হয়েছে জ্যামিতিক বৈশিষ্ট্যে। পাথরগুলো কাটাও হয়েছে বিশেষ কায়দায়। বড়গুলো কাটা হয় অনেকটা আয়াতাকার আকৃতি করে, তারপর এর উপর অপেক্ষাকৃত ছোটগুলিকে বসানোর জন্য এদের গায়ে বিশেষ খাঁজ কাটা হয়। খাড়া পাথরের উচ্চতা ৪.১ মিটার, প্রস্থ ২.১ মিটার, ওজন ২৫ টন। ওপরের গুলো ৩.২ মিটার লম্বা, ১ মিটার প্রস্থ ও ০.৮ মিটার পুরু। বৃত্তের ভিতর ৫ টি বিশালাকার, অনেকটা ঘোড়ার পায়ের আকৃতি বিশিষ্ট(ইউ আকৃতির) খাড়া পাথরের উপর ১০ টি পাথরখণ্ড উত্তরমুখী করে বসানো। পাথরের সারির মাঝে মাঝে নীল পাথরের স্তম্ভগুলি অবস্থিত যা বৃত্তাকার পথটিকে পূর্ণ করে। অনেক পাথরের গায়ে কুঠার, নানা খনন যন্ত্রের ছাপও দেখা যায়। ধারণা করা হয় ব্রোঞ্জ যুগের পর আঁকা হয় এগুলো।


১৭০০ শতাব্দীর ঐতিহাসিকেরা দাবী করেছিলেন, কেল্টিক ধর্মযাজকরাই স্টোনহেঞ্জ নির্মান করেছে। এই ধর্মযাজকদের বলা হয় ড্রুয়িদ। অসম্ভব রহস্যময় এই যাজকদের অলৌকিক নানা শক্তি ছিল। তবে তাঁদের নিয়ে তেমন কোনো তথ্য ছিল না কারও কাছেই। সে সময়ের স্থাপত্যবিদ ইনিগো জোনস বললেন, এই কাজ রোমানদের ছাড়া আর কারো না। প্রত্নতাত্ত্বিক ইলিয়ট স্মিথের মতে অবশ্য স্টোনহেঞ্জ নির্মাণের কৃতিত্ব মিসরীয় বা ফিনিশীয়দের।


 ১৮০৮ সালে ইংরেজ প্রত্ন সংগ্রাহক স্যার রিচার্ড কোল্ট হোয়ার 
স্টোনহেঞ্জের চারপাশের প্রাচীন কবরগুলো থেকে ব্রোঞ্জের অস্ত্রশস্ত্র, সোনার অলংকারসহ হাড়ের স্তূপ খুঁজে পান। তখন ধারণা করা হয় এটা আসলে ধর্মশালা না, এটা সমাধি স্থল। হাড়, অলংকার, অস্ত্রশস্ত্র পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে বিশেষজ্ঞরা এ সিদ্ধান্তে পৌঁছান যে এই নির্মাণ বহিরাগতদের করা। আবার কেউ বললেন, মাইসিনে যোদ্ধারা স্থানীয় বাসিন্দাদের দিয়ে বানিয়ে নিয়েছেন স্টোনহেঞ্জ। তবে কার্বন-১৪ ডেটিং পদ্ধতি দ্বারা প্রমাণিত হয়, স্টোনহেঞ্জ বানানো হয়েছে মাইসেনিয়ান যুদ্ধের ৫০০ বছর আগে। এত মত! একেক জনের একেক কথা! কারটা মানবেন? মানা, না মানা পরের কথা; আগে শুনেন বিষয়টা। তো ঐতিহাসিকরা গবেষণা করে বের করলো তিন ধাপে নির্মিত হয়েছে স্টোনহেঞ্জ। প্রথম ধাপ প্রাগৈতিহাসিক যুগের চেয়ে এক হাজার বছর আগের। দ্বিতীয় ধাপটি দুই হাজার খ্রিস্টপূর্বাব্দের। আর শেষটি ১৯০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দের।

তবে কার্বন-১৪ ডেটিং পদ্ধতি দ্বারা প্রমাণিত হয়, স্টোনহেঞ্জ বানানো হয়েছে মাইসেনিয়ান যুদ্ধের ৫০০ বছর আগে।


ধারণা করা হয়, স্টোনহেঞ্জকে হয়তো একটি পবিত্র স্থান হিসেবে ব্যবহার করা হতো। ১৭৪০ সালে উইলিয়াম স্টুকলে একে ড্রুয়িদদের প্রার্থনার ঘর হিসেবে উল্লেখ করেন। ১৮৪০ সালে এডওয়ার্ড ডিউক একে শনি গ্রহের কক্ষপথের সঙ্গে তুলনা করেন। বহু বিশেষজ্ঞ একে প্রাচীন জাদুর কেন্দ্র হিসেবেও বর্ণনা করে গেছেন। ১৯০১ সালে স্যার নরম্যান লকার ও ১৯৬৩ সালে জেরাল্ড হকিনস একে কম্পিউটারের সঙ্গে তুলনা করেন! ২০০৮ সালে প্রত্নতাত্ত্বিকেরা উল্লেখ করেন, এটি প্রাচীন একটি সমাধিস্থল। খ্রিষ্টের জন্মের তিন হাজার বছর আগে এর প্রথম খননকাজ শুরু হয়। এর পর থেকে ৫০০ বছর ধরে এখানে অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া ও সমাধি করা হয়। অসাধারণ এ স্থাপত্যের বর্ণনা করার মতো গল্প এতটুকুই। আর কোনো প্রশ্নের উত্তর নেই বিশেষজ্ঞদের কাছে। ১৯৮৬ সালে ইউনেসকো একে ‘ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট’ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।
সব মিলিয়ে দর্শনার্থীদের কাছে স্টোনহেঞ্জ অপার এক সৌন্দর্যের নাম। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের কাছে এখনো মাথা গুলিয়ে দেওয়া এক রহস্যের নাম স্টোনহেঞ্জ।


ভয়নিচ ম্যানুস্ক্রিপ্ট(voynich-manuscript)



রহস্যময় ভয়নিচ পান্ডুলিপি সম্পূর্ণ হাতে লেখা চিত্রসম্বলিত একটি গ্রন্থ যা কোন অজানা বর্ণমালায় রচিত। কার্বন ডেটিং পরীক্ষা করে জানা গেছে যে গ্রন্থটি ১৪০৪-১৪৩৮ সালের মাঝে কখনও রচিত হয়েছে। রচয়িতা সম্পুর্ণ অজ্ঞাত। ইতিহাসে এই গ্রন্থের রচয়িতা সম্পর্কে কোন তথ্য নেই। ধারণা করা হয় রেঁনেসার সময়ে ইতালীর উত্তরাংশে কোথাও এটি রচিত হয়ে থাকতে পারে। পোলিশ গ্রন্থ ব্যবসায়ী উইলফ্রিড মাইকেল ভয়নিচ ১৯১২ সালে গ্রন্থটি ক্রয় করেন। এরপর থেকেই রহস্যময় এই গ্রন্থটি ভয়নিচ মযানুস্ক্রিপ্ট নামেই পরিচিত। ভেলাম পার্চমেন্টের উপরে লেখা গ্রন্থটির কিছু পাতা কালের আবর্তে হারিয়ে গেলেও এখনও প্রায় ২৪০ টি পাতা অক্ষত আছে।


গ্রন্থটিতে প্রায় ১৭০,০০০ টি অক্ষর আছে আর শব্দসংখ্যা প্রায় ৩৫,০০০। শব্দের মধ্যে অক্ষর বিন্যাস গবেষকদের অবাক করেছে। কোন কোন অক্ষর শুধু প্রথমে, মাঝে বা শেষেই বসেছে। কিছু বিশেষ শব্দ শুধু বিশেষ কিছু পৃষ্ঠায় দেখা গেছে।  কখনও কখনও একি লাইনে এই শব্দের প্রয়োগ দুইবার বা তিনবারও দেখা গেছে। কোন কোন বিশেষ চিহ্নের বারংবার প্রয়োগ এই গ্রন্থের পাঠোদ্ধার কে আরো দুঃসাধ্য করে তুলেছে।


এখন পর্যন্ত বহু বিশেষজ্ঞ দ্বারা গ্রন্থটি পরীক্ষিত হয়েছে কিন্তু কারো দ্বারাই এর পাঠোদ্ধার করা সম্ভব হয় নি। এমনকি ২য় বিশ্বযুদ্ধের দক্ষ ক্রিপ্টোগ্রাফারগণ ও হার মানতে বাধ্য হয়েছেন। বর্তমানে পান্ডুলিপিটি সংরক্ষিত আছে আমেরিকার ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের বেইনেক লাইব্রেরীতে। ১৯৬৯ সালে হ্যান্স পি ক্রাউস গ্রন্থটি সেখানে উপহার হিসেবে দান করেন। বইটির ক্যাতালগ নাম্বার হল MS-408। লেখা এবং চিত্রাঙ্কনের ধরণ দেখে বোঝা যায় যে, এটি পালকের কলম দিয়ে লেখা এবং চিত্রাঙ্কনে লোহার আকরিক থেকে নির্মিত কালি ব্যবহৃত হয়েছে।


গ্রন্থের চিত্রাঙ্কন থেকে ধারণা করা হয় যে, গ্রন্থটিতে মোট ৬টি বিষয়ের সমাবেশ রয়েছে। প্রত্যেকাংশে চিত্রের সাথে বর্ণনা রয়েছে। গ্রন্থের শেষাংশে কোন চিত্র নেই বরং শুধু লেখা রয়েছে। যে যে বিষয়ের ব্ররণনা আছে বলে ধারনা করা হয় তা হল
১। লতাগুল্ম
২। জ্যোতিষ্ক/রাশি সংক্রান্ত
৩। জীববিদ্যা
৪। মানচিত্র
৫। চিকিৎসা/ওষধি বৃক্ষ সংক্রান্ত
৬। লৈখিক বর্ণনা


এই গ্রন্থের আদি উৎসের ইতিহার অজ্ঞাত। উইলফ্রিড ভয়েনিচ গ্রন্থটি কেনার পর এর ভেতর একটা চিঠি পান যা ১৬৬৬ সালে লেখা ছিল। চিঠিটা জোহান্স মার্কুস লেখেন অ্যাথানাসিয়াস কির্চার কে। ঐ চিঠিতে উল্লেখ ছিল, এই গ্রন্থ সম্রাট রুডলফ এর তত্ত্বাবধানে ছিল যা উনি ৬০০ ডুকাট স্বর্ণমূদ্রা দিয়ে ক্রন করেন যা প্রায় ২ কিলো ৭০ গ্রাম স্বর্ণের ওজনের সমান। পরে উনি গ্রন্থটি উনার উদ্ভিদ উদ্যানের প্রধান জ্যাকোবাস হর্সিকি দে টেপেনেজ কে প্রদান করেন। পরে এই গ্রন্থের স্বত্বাধিকারী হন, প্রেগ এর অন্যতম কেমিস্ট জর্জ ব্যারেশ। ব্যারেশের মৃত্যুর পর গ্রন্থটি তারই বন্ধু প্রেগের চার্লস ভার্সিটির রেক্টর জোহান্স মার্কুস মার্সির নিকটে। উনি কয়েক বছর পরে অ্যাথানাসিয়াস কির্চারের নিকট পাঠান এটার পাঠোদ্ধারের আশায়। কির্চার মিশরের হায়ারোগ্লিফিক ভাষার পাঠোদ্ধারের দাবীদার ছিলেন। জোহান্স একটি চিঠিতে তাঁকে অনুরোধ করেন গ্রন্থটির পাঠোদ্ধার করতে। এই চিঠিটাই পরে গ্রন্থের সাথে ভয়েনিচের হস্তগত হয়।


এর পরের প্রায় ২০০ বছরের ইতিহাস একেবারেই অন্ধকারের অন্তরালে রয়ে গেছে। ধারণা করা হয় কির্চারের তত্ত্বাবধানে এটা রোমানো কলেজ (বর্তমানে পন্টিফিসাল গ্রেগরিয়ান ইউনিভার্সিটি) এ রক্ষিত ছিল। ১৯১২ সালে রোমানো কলেজে অর্থসংকট দেখা দিলে কর্তৃপক্ষ এর কিছু জিনিস বিক্রি করার সিদ্ধান্ত নেন যার মধ্যে এই রহস্যময় পান্ডুলিপিটিও ছিল। পরে ভয়েনিচ এটা ক্রয় করে নিলে উনার নালে এই পান্ডুলিপিটি পরিচিত হয়। এরপরে প্রায় ৭ বছর ধরে ভয়েনিচ নিজে এর পাঠোদ্ধারের প্রয়াস নেন এবং অন্যান্য বিশেষজ্ঞদের নজরে গ্রন্থটি আনার চেষ্টা করেন। ১৯৩০ সালে ভয়েনিচ মারা গেলে তার বিধবা স্ত্রী ইথেল ভয়েনিচ এই গ্রন্থের তত্ত্বাবধানে আসেন। ইথেল ১৯৬১ সালে মারা যাবার আগে তার বান্ধবী অ্যান নীলকে গ্রন্থটি দিয়ে যান। নীল পরে গ্রন্থটি হ্যান্স পি ক্রাউস এর নিকটে বিক্রি করে দেন। হ্যান্স পরে এই গ্রন্থের কোন ক্রেতা না পেয়ে তা ইয়েল ইউনিভার্সিটির সংগ্রহালয়ে দান করে দেন। বর্তমানে ভয়েনিচ ম্যানুস্ক্রিপ্ট সেখানেই আছে।

এমন আর কিছু অজানা রহস্য রয়েছে যা পরে আলোচনার চেষ্টা করব।

আজ আমি হয়তবা এই সব রহস্য নিয়ে লিখছি ।যার সমাধান হয়ত আমাদের এই সভ্যতার মানুষের নাই বা করতে সময় লাগবে বা হবেই নাহ এর সমাধান।কিন্তু হয়ত  বা ৩০০০ সালে বা আমাদের চেয়ে আধুনিক সভ্যতার মানুষ এর সমাধান করে হতবা ফেলবে।

আর তা আমার মত কেউ সেই সময় ব্লগ বা অন্য কিছুর মাধ্যমে জানাবে। তখন হয়ত আমি বা আমরা থাকব নাহ।

আর জানেন ত রহস্যর ধর্মই হল গোপন করা তা না হলে যে তা আর রহস্য থাকে নাহ।



লেখক

জ্ঞান অন্নেষী




তথ্য প্রপ্তিঃ ইন্টারনেট

Wednesday, 19 April 2017

seven Hero(৭ বীরশ্রেষ্ঠ) in our country




নিম্মজিত গগনে সূর্যের নেয় তারা হয়ত বা আজ অস্তিমিত কিন্তু তারা বেঁচে আছে এ দেশের মানুষের হৃদয়ে। তারা যে নিজের জীবন কে উৎসর্গ করেছে নিজের দেশের জন্য তাই ত তারা বেচে আছে মানুষের মাঝে । হাজার হাজার সাহসি বীর নিজের জীবন দিয়াছে এই দেশ কে স্বাধীন করতে। তাদের মাঝে ৭জন বীরশ্রেষ্ঠ কে নিয়ে আমার লিখা।তারা যে মহান গৌরবের নিজের জীবন কে দেশের জন্য দিয়ে গিয়াছেন ।তাহ যে ভোলার নয়।তারা শহীদ হয় বেঁচে আছে কোটি মানুষের প্রানে।



বীরশ্রেষ্ঠ হলঃ বীরত্বের জন্য প্রদত্ত বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সামরিক পদক।যুদ্ধক্ষেত্রে অতুলনীয় সাহস আত্মত্যাগের নিদর্শন স্থাপনকারী যোদ্ধার স্বীকৃতিস্বরূপ এই পদক দেয়া হয়। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে শহীদ সাতজন মুক্তিযোদ্ধাকে এই পদক দেয়া হয়েছে যা ১৫ ডিসেম্বর ১৯৭৩ সালের বাংলাদেশ গেজেট কর্তৃক প্রকাশিত

তাদের প্রাপ্ত পদক টি হল

উক্ত গেজেট অনুসারে ৭ জন বীরশ্রেষ্ঠ নাম হল
ক্রম   
 নাম
সেক্টর
পদবী
গ্যাজেট নম্বর
০১
০১
০২
০২
০৩
০৩
০৪
০৪
০৫
০৫
০৬
০৬
০৭.
০৭

নাম গুল আমরা বিভিন্ন সময় পরেছি বা জানি । তবে তাদের নিয়ে লিখতে হলে তাদের নাম ত দিতেই হবে।



প্রাইমারি বা কোন গল্পের বই এর পাতা তে হয় ত বা তাদের জীবনী পরেছেন বা জানেন তবুও আমি নিজে তাদের সম্পর্ক সংক্ষিপ্ত বর্ণনা করলাম।

বীরশ্রেষ্ঠ মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর (১৯৪৯-১৯৭১)


সামরিক বাহিনীর ইঞ্জিনিয়ার কোরের অফিসার, মুক্তিযুদ্ধে শহীদ। ১৯৪৯ সালের মার্চ  বরিশাল জেলার বাবুগঞ্জ উপজেলার রহিমগঞ্জ গ্রামে তাঁর জন্ম। পিতা আব্দুল মোতালেব হাওলাদার ছিলেন মরমী গানের প্রতি আসক্ত এক সংসার বিবাগী ব্যক্তিত্ব মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর মুলাদির পাতারচর প্রাইমারী স্কুলে প্রাথমিক শিক্ষা লাভ করেন। তিনি ১৯৬৪ সালে মুলাদি মাহমুদজান পাইলট হাইস্কুল থেকে এস.এস.সি এবং ১৯৬৬ সালে বরিশাল ব্রজমোহন কলেজ থেকে বিজ্ঞান বিভাগে এইচ.এস.সি পাশ করেন। এরপর তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে  পরিসংখ্যান বিভাগে বি.এস-সি অর্নাস ক্লাশে ভর্তি হন।

বীরশ্রেষ্ঠ মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর
বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর ১৯৬৭ সালে ১৫তম শর্ট সার্ভিস কোর্সে প্রশিক্ষণার্থী অফিসার ক্যাডেট নির্বাচিত হন এবং কাকুলে পাকিস্তান মিলিটারি একাডেমীতে ক্যাডেট হিসেবে যোগ দেন। ১৯৬৮  সালে ইঞ্জিনিয়ারিং কোরে কমিশন্ড পদ লাভ করে তিনি ১৭৩ ইঞ্জিনিয়ার ব্যাটালিয়নে যোগ দেন। তিনি ১৯৬৮ সালের ডিসেম্বর লেফটেন্যান্ট পদে পদোন্নতি লাভ করেন। মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর ১৯৬৯-৭০ সালে রিসালপুরে মিলিটারি কলেজ অব ইঞ্জিনিয়ারিং থেকে বেসিক কোর্স ট্রেনিং এবং পরে ইনফ্যান্ট্রি স্কুল অব ট্যাক্টিক্র্  থেকে অফিসার উইপন ডব্লিউ কোর্স-১৩ সমাপ্ত করেন। ১৯৭০ সালের ৩০ আগষ্ট তিনি ক্যাপ্টেন পদে উন্নীত হন।



১৯৭১ সালে  মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সোয়াতের সাইদুর শরীফে ১৭৩ নম্বর ইঞ্জিনিয়ার ব্যাটালিয়নে কর্মরত ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণের লক্ষ্যে তিনি তাঁর তিনজন সহকর্মি ক্যাপ্টেন সালাউদ্দিন, ক্যাপ্টেন শাহরিয়ার ক্যাপ্টেন আনাম সহ গোপনে জুলাই কর্মস্থল ত্যাগ করেন  এবং দুর্গম পার্বত্য এলাকা মুনাওয়ার তায়ী নদী অতিক্রম করে শিয়ালকোটের নিকটে সীমান্ত পার হন এবং মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেন।

মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীরকে নং সেক্টরের মেহেদিপুর (মালদহ জেলায়) সাবসেক্টরের কমান্ডার নিয়োগ করা হয়। এসময় লেফটেন্যান্ট কর্নেল কাজী নুরুজ্জামান নং সেক্টরের সেক্টর-কমান্ডার ছিলেন। মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর পাক হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে কানসাট, আরগরার হাট শাহপুর সহ কয়েকটি সফল অভিযানে অসাধারণ নৈপুণ্য সাহসিকতার পরিচয় দেন। ফলে ডিসেম্বর মাসে রাজশাহীর চাঁপাইনববগঞ্জ দখলের জন্য তাঁকে একটি মুক্তিযোদ্ধা দলের নেতৃত্ব দেয়া হয়।

পাকবাহিনী ইতোমধ্যেই নবাবগঞ্জ শহর প্রতিরক্ষার জন্য মহানন্দা নদীর তীরে তিন কিলোমিটার এলাকা ব্যাপি বাঙ্কার নির্মাণ  করে রাখে। বাঙ্কারে ছিল পাঁচ ফুট গভীর গতায়াত পরিখা। লেফটেন্যান্ট কাইয়ুম, লেফটেন্যান্ট আউয়াল এবং জন পঞ্চাশেক মুক্তিযোদ্ধাসহ মহিউদ্দিন নওয়াবগঞ্জ শহরের পশ্চিমে বারঘরিয়া নামক স্থানে অবস্থান গ্রহণ করেন (১০ ডিসেম্বর) ১৩ ডিসেম্বর প্রত্যূষে তিনি এক প্লাটুন মুক্তিযোদ্ধা সহ রেহাইচরের মধ্য দিয়ে নৌকাযোগে মহানন্দা নদী পার হন এবং অতর্কিত আক্রমণ চালিয় বেশ কয়েকটি বাঙ্কার দখল করে নেন। পাকিস্তানী বাহিনী তখন পশ্চাদপসরণ করে নওয়াবগঞ্জ শহরে অবস্থান নেয় এবং একটি দালানের ছাদ থেকে মেশিনগানে অনবরত গুলি চালিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের শহরাভিমুখে অগ্রযাত্রা ঠেকিয়ে রাখে। এই সংকটময় সময়ে মহিউদ্দিন মেশিনগান ধ্বংস করার পরিকল্পনা নেন। তিনি বা হাতে এসএমজি ডান হাতে একটি গ্রেনেড নিয়ে গোপনে ক্যাম্প থেকে বেরিয়ে আসেন। হামাগুড়ি দিয়ে রাস্তা পার হয়ে তিনি দ্রুত মেশিনগানবাহী বাড়িটির দিকে ধাবিত হন। ত্বরিত গতিতে তিনি মেশিনগান বরাবর গ্রেনেড নিক্ষেপ করেন। বিস্ফোরিত গেনেডের আঘাতে মেশিনগানের স্থলটি সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়। অকস্মাৎ রাস্তার পাশের একটি দোতলা বাড়ি থেকে  একটি গুলি তাঁর কপালে বিদ্ধ হয়, এবং সঙ্গে সঙ্গে তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন (১৪ ডিসেম্বর)

এতে হতোদ্যম না হয়ে মুক্তিযোদ্ধারা সন্ধ্যার দিকে শত্রু অবস্থানের ওপর প্রচন্ড আক্রমণ চালায়। গভীর রাত পর্যন্ত আক্রমণ অব্যাহত ছিল। পাকসেনারা শেষপর্যন্ত  রাতের অন্ধকারে নওয়াবগঞ্জ শহর ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়।
ভোর রাতে মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীরের মৃতদেহ উদ্ধার করে তাঁকে  ছোট সোনা মসজিদ প্রাঙ্গণে সমাহিত করা হয়।

মুক্তিযুদ্ধে বীরোচিত ভূমিকা আত্মদানের স্বীকৃতিস্বরূপ মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীরকে সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মানসূচকবীরশ্রেষ্ঠখেতাবে ভূষিত করা হয়। কিছু প্রতিষ্ঠান স্থাপনা এখনও তাঁর স্মৃতি বহন করছে। এগুলো হলো বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর কলেজ (বর্তমান স্বরূপনগরে, চাঁপাইনবাবগঞ্জ), বীরশ্রেষ্ঠ জাহাঙ্গীর গেট (ঢাকা সেনানিবাস), বীরশ্রেষ্ঠ জাহাঙ্গীর হাইস্কুল (রহিমগঞ্জ), বীরশ্রেষ্ঠ জাহাঙ্গীর সরণি (রাজশাহীর একটি সড়ক), বীরশ্রেষ্ঠ জাহাঙ্গীর ফেরি (বিআইডব্লিউটিসি), বীরশ্রেষ্ঠ জাহাঙ্গীর ক্লাব (চাঁপাইনবাবগঞ্জ)  তথ্য প্রাপ্তি (বাংলাপিডিয়া)




বীরশ্রেষ্ঠ মোহাম্মদ হামিদুর রহমান
                                              
রহমান, বীরশ্রেষ্ঠ মোহাম্মদ হামিদুর (১৯৪৫-১৯৭১ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সিপাহি এবং মুক্তিযুদ্ধে শহীদ। পশ্চিমবঙ্গের চবিবশ পরগনা জেলার চাপড়া থানার ডুমুরিয়া গ্রামে ১৯৪৫ সালে তাঁর জন্ম। ভারত বিভাগের (১৯৪৭) পর তাঁদের পরিবার পূর্ববঙ্গে এসে খুলনা জেলার খালিশপুরের ঘরোদায় স্থায়িভাবে বসবাস শুরু করেন। হামিদুর রহমান খালিশপুর প্রাইমারি স্কুলে এবং পরে স্থানীয় একটি নৈশ বিদ্যালয়ে প্রাথমিক শিক্ষা লাভ করেন। ১৯৭১ সালের ফেব্রুয়ারি তিনি ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে যোগ দেন এবং রেজিমেন্টের চট্টগ্রাম সেনানিবাস কেন্দ্রে তাঁকে নিয়োগদান করা হয়। ২৫ মার্চ রাতে পাকবাহিনীর আক্রমণের মুখে তিনি সেনানিবাস ত্যাগ করে গ্রামের বাড়িতে চলে আসেন। পরে তিনি বর্তমান মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ থানার দক্ষিণ-পশ্চিম সীমান্তে ধলই নামক স্থানে মুক্তিবাহিনীতে যোগ দেন।

পাকসেনাদের ধলই সীমান্ত ঘাঁটির সামরিক গুরুত্বের কারণে মুক্তিযোদ্ধারা ঘাঁটিটি দখলের পরিকল্পনা করে। প্রথম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টেরসিকোম্পানিকে দায়িত্ব দেয়া হয়। হামিদুর রহমান ছিলেন এই কোম্পানির সদস্য। ২৪ অক্টোবর রাত থেকে ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যা পর্যন্ত মুক্তিযোদ্ধা পাকবাহিনীর মধ্যে অবিরাম সংঘর্ষ চলে। যুদ্ধের ফলাফল তখনও ছিল অনিশ্চিত। ২৮ অক্টোবরের পূর্ব রাতে মুক্তিযোদ্ধাদের তিনটি প্লাটুন অতি সন্তর্পণে পাকসেনাদের ঘাঁটি অভিমুখে অগ্রসর হয়। শত্রুর ঘাঁটির কাছাকাছি এসে মুক্তিযোদ্ধারা যখন অতর্কিত আক্রমণের উদ্যোগ নেন, তখন অকস্মাৎ একটি মাইন বিস্ফোরণের শব্দে শত্রুপক্ষ সচকিত হয়ে এলোপাথাড়ি গুলি ছুঁড়তে থাকে। কয়েক ঘণ্টাব্যাপী দুপক্ষে সংঘর্ষ চলে। উত্তর-পূর্ব দিক থেকে শত্রুপক্ষের এল.এম.জির গুলবর্ষণের ফলে মুক্তিযোদ্ধাদের অগ্রগতি ব্যাহত হয়।

সঙ্কটময় পরিস্থিতিতে  হামিদুর রহমান শত্রুর এল.এম.জি পোস্ট ধ্বংস করার সিদ্ধান্ত নেন। তিনি তাঁর দল থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গ্রেনেড হাতে রাতের অন্ধকারে সন্তর্পণে হামাগুড়ি দিয়ে শত্রুর এল.এম.জি পোস্টের দিকে অগ্রসর হন এবং রাতের শেষ প্রহরে গ্রেনেড ছুড়ে দুই এল.এম.জি চালককে হত্যা করেন। সঙ্গে সঙ্গে শত্রুর এল.এম.জি স্তব্ধ হয়ে যায়; কিন্তু নিজে তিনি শত্রুপক্ষের গুলিতে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন (২৮ অক্টোবর ১৯৭১)

এল.এম.জির গুলিবর্ষণ বন্ধ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে যুদ্ধের মোড় ঘুরে যায়। তীব্র আক্রমণ চালিয়ে মুক্তিযোদ্ধারা শত্রুর ঘাঁটি দখল করে নেয়। মুক্তিযোদ্ধারা হামিদুর রহমানের মৃতদেহ উদ্ধার করে প্রায় ত্রিশ কিলোমিটার অভ্যন্তরভাগে নিয়ে আসে। ত্রিপুরা রাজ্যের আমবাসায় তাঁকে সমাহিত করা হয়। ধলই সীমান্তে তাঁর শাহাদাত স্থলে পরবর্তী সময়ে একটি স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করা হয়।

মুক্তিযুদ্ধে বীরোচিত ভূমিকা আত্মত্যাগের স্বীকৃতিস্বরূপ হামিদুর রহমানকে সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মাননাবীরশ্রেষ্ঠখেতাবে ভূষিত করা হয়।
সম্প্রতি হামিদুর রহমানের দেহাবশেষ আমবাসা থেকে এনে ঢাকায় সমাহিত করা হয়েছে। তথ্য প্রাপ্তি (বাংলাপিডিয়া)


মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল (১৬ ডিসেম্বর ১৯৪৭ - এপ্রিল ১৮ ১৯৭১)

                                           

কামাল, বীরশ্রেষ্ঠ মোহাম্মদ মোস্তফা (১৯৪৭-১৯৭১শহীদ মুক্তিযোদ্ধা। ভোলা জেলায় দৌলতখান উপজেলার পশ্চিম হাজীপাড়া গ্রামে ১৯৪৭ সালে তাঁর জন্ম। তাঁর পিতা মোহাম্মদ হাফিজ ছিলেন সেনাবাহিনীর হাবিলদার। মোস্তফা কামাল  ১৯৬৭ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাড়ি থেকে পালিয়ে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে যোগ দেন। প্রশিক্ষণ শেষে তাঁকে নিয়োগ করা হয় ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট, কুমিল্লায়। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ শুরুর কয়েকদিন পূর্বে সিপাহি মোস্তফা কামাল অবৈতনিক ল্যান্স নায়েক হিসেবে পদোন্নতি পান।

১৯৭১ সালের উত্তাল রাজনৈতিক পরিবেশে পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টকে অভ্যন্তরীণ গোলযোগ নিয়ন্ত্রণের অজুহাতে সিলেট ব্রাহ্মণবাড়ীয়ায় মোতায়েন করে। পাকিস্তানি চক্রান্ত বুঝতে পেরে কয়েক জন বাঙালি সৈনিককে সঙ্গে নিয়ে মেজর শাফায়াত জামিল রেজিমেন্টের অধিনায়ক লে. কর্নেল খিজির হায়াত খানসহ সকল পাকিস্তানি অফিসার সেনাদের গ্রেফতার করেন।

এরপর তারা মেজর খালেদ মোশারফের নেতৃত্বে আশুগঞ্জ, উজানিস্বর ব্রাহ্মণবাড়ীয়ার এন্ডারসন খালের পাশ দিয়ে প্রতিরক্ষা অবস্থান নেন। ১৪ এপ্রিল পাকিস্তানি বাহিনী হেলিকপ্টার গানশীপ, নেভাল গানবোট এফ-৮৬ বিমানযোগে মুক্তিবাহিনীর ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের প্রতিরক্ষা অবস্থানের উপর ত্রিমুখী আক্রমণ চালায়। গঙ্গাসাগর প্রতিরক্ষা অবস্থানের দরুইন গ্রামে নিয়োজিত আলফা কোম্পানির ২নং প্লাটুনের একজন সেকশন কমান্ডার ছিলেন মোস্তফা কামাল।

১৭ এপ্রিল সকাল থেকে পাকিস্তানি বাহিনী তীব্র গোলাবর্ষণ শুরু করে প্লাটুন পজিশনের উপর। আক্রমণের খবর পেয়ে মেজর শাফায়াত অবস্থানকে আরো শক্তিশালী করতে হাবিলদার মুনিরের নেতৃত্বে ডি কোম্পানির ১১ নম্বর প্লাটুন পাঠান। সারাদিন যুদ্ধ চলে। ১৮ এপ্রিল সকালে শত্রুবাহিনী দরুইন গ্রামের কাছে পৌঁছে যায়। দুপুর ১২ টায় অবস্থানের পশ্চিমদিক থেকে মূল আক্রমণ শুরু হয়। শত্রুর একটি দল প্রতিরক্ষার পিছন দিক দিয়ে মুক্তিবাহিনীকে ঘিরে ফেলে। মুক্তিবাহিনী দরুইন গ্রাম থেকে আখাউড়া রেল স্টেশনের দিকে পশ্চাদপসরণের সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু নিরাপদে সেখান থেকে সরে আসতে হলে তাদের প্রয়োজন ছিল নিরবচ্ছিন্ন কাভারিং ফায়ার। মোস্তফা কামাল সহযোদ্ধাদের জানান যে, তিনি নিজে এই কাভারিং ফায়ার দান করবেন এবং সবাইকে পেছনে হটতে নির্দেশ দেন। সহযোদ্ধারা মোস্তফাকেও পশ্চাদপসরণের অনুরোধ করেন। কিন্তু মোস্তফা ছিলেন অবিচল।  

মোস্তফার গুলীবর্ষণে পাকিস্তানি সৈন্যদের প্রায় ২০-২৫ জন হতাহত হয় এবং তাদের অগ্রগতি মন্থর হয়ে পড়ে। পাকিস্তানিরা মরিয়া হয়ে মোস্তফা কামালের অবস্থানের উপর মেশিনগান এবং মর্টারের গোলাবর্ষণ করতে থাকে। এক পর্যায়ে মোস্তফা কামালের এল.এম.জি- গুলি নিঃশেষ হয়ে যায় এবং তিনি মারাত্বক জখম হন। তখন পাকিস্তানি সৈনিকরা ট্রেঞ্চে এসে তাঁকে বেয়নেট দিয়ে খুঁচিয়ে হত্যা করে।

দরুইন গ্রামের জনগণ মোস্তফা কামালকে তাঁর শাহাদাতের স্থানের পাশেই সমাহিত করেন। মুক্তিযুদ্ধে সাহসিকতা আত্মত্যাগের স্বীকৃতি স্বরূপ বাংলাদেশ সরকার তাঁকে সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মাননাবীরশ্রেষ্ঠখেতাবে ভূষিত করে। তথ্য প্রাপ্তি (বাংলাপিডিয়া)


মোহাম্মদ রুহুল আমিন (১৯৩৫ - ১০ ডিসেম্বর)

আমিন, বীরশ্রেষ্ঠ মোহাম্মদ রুহুল (১৯৩৫-১৯৭১১৯৩৫ সালের জুন মাসে ফেনী জেলার বেগমগঞ্জ থানার বাঘচাপড়া গ্রামে তাঁর জন্ম। পিতা  মোহাম্মদ আজহার পাটোয়ারি এবং মাতা জোলেখা খাতুন। ছোটবেলায় তাঁর পড়াশোনা শুরু হয় পাড়ার মক্তবে, পরে বাঘচাপড়া প্রাইমারি স্কুল এবং আমিষা পাড়া হাইস্কুলে। ১৯৫৩ সালে তিনি নৌবাহিনীতে জুনিয়র মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে যোগ দেন এবং প্রাথমিক প্রশিক্ষণের জন্য করাচির অদূরে মানোরা দ্বীপে পিএনএস কারসাজ- (নৌবাহিনীর কারিগরী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান) যোগ দেন। ১৯৫৮ সালে তিনি পেশাগত প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেন এবং ১৯৬৫ সালে মেকানিক্যাল কোর্সের জন্য নির্বাচিত হন। সফলভাবে কোর্স সমাপ্তির পর তিনি ইঞ্জিন রুম আর্টিফিশার নিযুক্ত হন। ১৯৬৮ সালে তিনি চট্রগ্রামে পিএনএস বখতিয়ার নৌঘাঁটিতে বদলি হন।
                                                 
১৯৭১ সালে  মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে রুহুল আমিন মুক্তিযুদ্ধে যোগদানের সিদ্ধান্ত নেন এবং এপ্রিল মাসে ত্রিপুরা সীমান্ত অতিক্রম করে ২নং সেক্টরে যোগদান করেন। সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত তিনি বেশ কয়েকটি সম্মুখ যুদ্ধে অংশ নেন। সেপ্টেম্বর মাসে বাংলাদেশ নৌবাহিনী গঠনের উদ্দেশ্যে সকল সেক্টর থেকে প্রাক্তন নৌ-সেনাদের আগরতলায় সংগঠিত করে নৌবাহিনীর প্রাথমিক কাঠামো গঠন করা হয়। পরে তাদের কলকাতায় আনা হয়। সেখানে সবার সাথে রুহুল আমিনও ছিলেন। ভারত সরকার বাংলাদেশ নৌবাহিনীকে দুটি টাগবোট উপহার দেয়। এগুলোকে কলকাতার গার্ডেন রীচ নৌ-ওয়ার্কশপে দুটি বাফার গান মাইন-পড জুড়ে গানবোটে রূপান্তর করা হয়। গানবোট দুটির নামকরণ হয়পদ্মাপলাশ রুহুল আমিন নিয়োগ পান পলাশের ইঞ্জিন রুম আর্টিফিশার হিসেবে।

ডিসেম্বর মংলা বন্দরে পাকিস্তানি নৌঘাটি পিএনএস তিতুমীর দখলের উদ্দেশ্যেপদ্মা’, ‘পলাশ মিত্র বাহিনীর গানবোটপানভেলভারতের হলদিয়া নৌঘাঁটি থেকে রওনা হয়। ডিসেম্বর সুন্দরবনের আড়াই বানকিতে বিএসএফের পেট্রোল ক্রাফটচিত্রাঙ্গদাতাদের বহরে যোগ দেয়। ডিসেম্বর কোনো বাধা ছাড়াই তারা হিরণ পয়েন্টে প্রবেশ করেন।

পরদিন ১০ ডিসেম্বর ভোর ৪টায় তারা মংলা বন্দরের উদ্দেশ্যে রওনা হন। সকাল ৭টায় কোনো বাধা ছাড়াই তারা মংলায় পৌঁছান। পেট্রোল ক্রাফট চিত্রাঙ্গদা মংলাতেই অবস্থান নেয় এবং পানভেল, পদ্মা পলাশ সামনে অগ্রসর হতে থাকে। দুপুর ১২টায় তারা খুলনা শিপইয়ার্ডের কাছাকাছি পৌঁছান। এসময় আকাশে তিনটি জঙ্গি বিমান দেখা যায়। পদ্মা পলাশ থেকে বিমানের উপর গুলিবর্ষণ করার অনুমতি চাইলে বহরের কমান্ডার বিমানগুলো ভারতীয় বলে জানান। কিন্তু অপ্রত্যাশিতভাবে বিমানগুলি পদ্মা পলাশের ওপর গুলি বোমা বর্ষণ শুরু করে। পলাশের কমান্ডার সবাইকে গানবোট ত্যাগ করার নির্দেশ দেন। কিন্তু রুহুল আমিন পলাশেই অবস্থান নেন এবং আপ্রাণ চেষ্টা চালান গানবোটকে সচল রাখতে। হঠাৎ শত্রুর একটি গোলা পলাশের ইঞ্জিন রুমে আঘাত করে এবং তা ধ্বংস হয়ে যায়। শেষ মুহূর্তে রুহুল আমিন নদীতে লাফিয়ে পড়েন এবং আহত অবস্থায় কোনক্রমে তীরে উঠতে সক্ষম হন। দুর্ভাগ্যক্রমে তীরে অবস্থানরত পাকিস্তানি সেনা রাজাকাররা তাঁকে নির্মমভাবে হত্যা করে। তাঁর লাশ উদ্ধার করা সম্ভব হয় নি।

মুক্তিযুদ্ধে রুহুল আমিনের বীরত্ব আত্মত্যাগের স্বীকৃতি স্বরূপ বাংলাদেশ সরকার তাঁকে সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মাননাবীরশ্রেষ্ঠখেতাবে ভূষিত করে। তথ্য প্রাপ্তি (বাংলাপিডিয়া)


বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান (২৯ অক্টোবর ১৯৪১ - ২০ আগস্ট ১৯৭১)
                                                     
রহমান, বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর (১৯৪১-১৯৭১ বীরশ্রেষ্ঠ খেতাবপ্রাপ্ত সাতজন মুক্তিযোদ্ধার অন্যতম ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান ঢাকার আগাসাদেক রোডস্থ পৈতৃক বাসভবনে ১৯৪১ সালের ২৯ নভেম্বর জন্মগ্রহণ করেন। ঢাকা কলেজিয়েট স্কুলে তিনি প্রাথমিক শিক্ষা গ্রহণ করেন।
এরপর তিনি পশ্চিম পাকিস্তানে সারগোদার পাকিস্তান বিমানবাহিনী পাবলিক স্কুলে ভর্তি হন। স্কুলে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করে পাকিস্তান বিমানবাহিনী একাডেমীতে যোগ দেন। তিনি ১৯৬৩ সালের জুন মাসে কমিশন লাভ করেন। কর্মস্থল ছিল পশ্চিম পাকিস্তানের রিসালপুর। পরের বছর পেশোয়ারে জেট পাইলট নিযুক্ত হবার পূর্বে করাচিতে জেট কনভার্সন কোর্স সাফল্যের সঙ্গে সম্পন্ন করেন।

১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ছুটিতে এসে মতিউর রহমান স্থানীয়ভাবে মুক্তিযোদ্ধাদের সংগঠিত করেন। ভৈরবে পাকবাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধে তিনি অংশ নিয়েছিলেন। পরে পারিবারিক চাপে মে মাসে তিনি পাকিস্তান চলে যান। সেখানে তিনি বিমান ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা করেন। তাঁর লক্ষ্য ছিল বিমান ছিনতাই করে সেটি নিয়ে মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেবেন।

২০ আগস্ট সকালে করাচির মশরুর বিমানঘাঁটি থেকে পাইলট অফিসার মিনহাজ রশীদের টি-৩৩ বিমান নিয়ে উড়বার শিডিউল ছিল। মতিউর ছিলেন তার প্রশিক্ষক। টি-৩৩ বিমানের সাংকেতিক নাম ছিল ব্লু বার্ড। প্রশিক্ষণকালে মতিউর বিমানটির নিয়ন্ত্রণ নিজ হাতে নিতে চেয়েছিলেন, কিন্তু পারেন নি। বিমানটি বিধ্বস্ত হয় ভারতীয় সীমান্তের কাছে থাট্টায়। মতিউরের মৃতদেহ ঘটনাস্থলের কাছাকাছি পাওয়া গেলেও মিনহাজের লাশের কোন হদিস মেলে নি। মতিউর রহমানকে দাফন করা হয় মশরুর বিমানঘাঁটির চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের কবরস্থানে। মতিউর রহমানের দেশপ্রেম আত্মদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁকে সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় বীরশ্রেষ্ঠ খেতাবে ভূষিত করা হয়।  [মোঃ সেলিম] তথ্য প্রাপ্তি (বাংলাপিডিয়া)

মুন্সি আব্দুর রউফ (১ মে ১৯৪৩ - ২০ এপ্রিল ১৯৭১)
মুন্সি আব্দুর রউফ ১৯৪৩ সালের মে ফরিদপুর জেলার মধুখালী উপজেলার (পূর্বে বোয়ালমারী উপজেলার অন্তর্গত) সালামতপুরে (বর্তমান নাম রউফ নগর) গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।তাঁর বাবা মুন্সি মেহেদি হাসান ছিলেন স্থানীয় মসজিদের ইমাম এবং মাতা মুকিদুন্নেসা। তাঁর ডাকনাম ছিলো রব। তাঁর দুই বোনের নাম ছিল জোহরা এবং হাজেরা।তিনি সাহসী মেধাবী ছিলেন, কিন্তু লেখাপড়ার প্রতি ঝোঁক ছিলো না। শৈশবে তাঁর বাবার কাছে লেখাপড়ার হাতেখড়ি হয়।

১৯৫৫ সালে তাঁর পিতার মৃত্যুর পর তিনি বেশিদূর লেখাপড়া করতে পারেন নি। সংসারের হাল ধরতে অষ্টম শ্রেণিতে লেখাপড়া ছেড়ে দিয়ে  ১৯৬৩ সালের ৮ মে  আব্দুর রউফ যোগ দেন ইস্ট পাকিস্তান রাইফেলসে। সেসময় তাঁকে বছর বেশি বয়স দেখাতে হয়েছিলো চাকুরিটি পাবার জন্য।চুয়াডাঙ্গার ইআরপি ক্যাম্প থেকে প্রাথমিক প্রশিক্ষণ শেষ করে আব্দুর রউফ উচ্চতর প্রশিক্ষণের জন্য পশ্চিম পাকিস্তানে যান। ছয় মাস পরে তাকে কুমিল্লায় নিয়োগ দেওয়া হয়, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ স্বাধীনতা যুদ্ধের শুরুতে চট্টগ্রামে ১১ নম্বর উইং- কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে তিনি ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সঙ্গে স্বাধীনতা যুদ্ধে যোগদান করেন।

১৯৭১ সালে বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে মুন্সি আব্দুর রউফ তাতে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের আগে তিনি চট্টগ্রামে ১১ উইং- চাকুরিরত ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের প্রাক্কালে পূর্ব পাকিস্তান রাইফেলসের ল্যান্স নায়েক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি মাঝারি মেশিনগান ডিপার্টমেন্টের নং মেশিনগান চালক হিসেবে দ্বায়িত্ব পালন করতেন। মুক্তিযুদ্ধ  শুরু হওয়ার পর তিনি অষ্টম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামের রাঙামাটি-মহালছড়ি জলপথে দায়িত্বপ্রাপ্ত হন। এই জলপথ দিয়ে পাকিস্তানি সশস্ত্রবাহিনীর চলাচল প্রতিরোধের দায়িত্ব পরে তাঁর কোম্পানির উপর। কোম্পানিটি বুড়িঘাট এলাকার চিংড়িখালের দুই পাড়ে অবস্থান নিয়ে গড়ে তুলে প্রতিরক্ষা ঘাঁটি।

এপ্রিল পাকিস্তানি বাহিনীর দুই কোম্পানি সৈন্য মর্টার, মেশিনগান রাইফেল নিয়ে বুড়িঘাটের মুক্তিবাহিনীর নতুন প্রতিরক্ষা ঘাঁটিকে বিধ্বস্ত করতে সাতটি স্পিডবোট এবং দুইটি লঞ্চ নিয়ে এগিয়ে আসতে থাকে। এটি ছিলো পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর দ্বিতীয় কমান্ডো ব্যাটালিয়নের কোম্পানি। মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতিরক্ষা ঘাঁটির কাছাকাছি পৌঁছেই পাকিস্তানি বাহিনী আক্রমণ শুরু করে। স্পিডবোট থেকে মেশিনগানের গুলি এবং আর লঞ্চ দুইটি থেকে তিন ইঞ্চি মর্টারের শেল নিক্ষেপ করছিলো মুক্তিযোদ্ধাদের দিকে। পাকিস্তানি বাহিনীর উদ্দেশ্য ছিলো রাঙামাটি-মহালছড়ির জলপথ থেকে মুক্তিযোদ্ধাদের পিছু হটিয়ে নিজেদের অবস্থান প্রতিষ্ঠা।

অষ্টম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের মুক্তিযোদ্ধারাও প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পরিখায় অবস্থান নিয়ে নেন। কিন্তু পাকিস্তানি বাহিনীর গোলাগুলির তীব্রতায় প্রতিরোধ ব্যবস্থা ভেঙ্গে যায় এবং তারা মুক্তিযোদ্ধাদের সঠিক অবস্থান চিহ্নিত করে ফেলে। যুদ্ধের এই পর্যায়ে প্রতিরক্ষা ঘাঁটির কমান্ডার আব্দুর রউফ বুঝতে পারলেন, এভাবে চলতে থাকলে ঘাঁটির সকলকেই পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে মৃত্যু বরণ করতে হবে। তিনি তখন কৌশলগত কারণে পশ্চাৎপসারণের সিদ্ধান্ত নিলেন। এই সিদ্ধান্ত সৈন্যদের জানানো হলে সৈন্যরা পিছু হটতে লাগল। পাকিস্তানি বাহিনী তখন আরো এগিয়ে এসেছে, সকলে একযোগে পিছু হটতে থাকলে আবারো একযোগে সকলকেই মৃত্যুবরণ করতে হতে পারে ভেবে আব্দুর রউফ পিছু হটলেন না। সহযোদ্ধাদের পিছু হটার সুযোগ করে দিতে নিজ পরিখায় দাঁড়িয়ে অনবরত গুলি করতে লাগলেন পাকিস্তানি স্পিডবোটগুলোকে লক্ষ্য করে। পাকিস্তানি সেনাদের বিরুদ্ধে একা কৌশলে লড়ছিলেন তিনি। সাতটি স্পিডবোট একে একে ডুবিয়ে দিলে পাকিস্তানি বাহিনী তাদের দুটি লঞ্চ নিয়ে পিছু হটতে বাধ্য হয়। লঞ্চ দুটো পিছু হটে রউফের মেশিনগানের গুলির আওতার বাইরে নিরাপদ দূরত্বে অবস্থান নেয়। পাকিস্তানি বাহিনী এরপর লঞ্চ থেকে মর্টারের গোলাবর্ষণ শুরু করে। মর্টারের গোলার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা রউফের একার পক্ষে সম্ভব ছিলো না। একটি মর্টারের গোলা তাঁর বাঙ্কারে এসে পরে এবং তিনি মৃত্যুবরণ করেন। কিন্তু তাঁর মৃত্যুর আগে সহযোগী যোদ্ধারা সবাই নিরাপদ দূরত্বে পৌঁছে যেতে পেরেছিলো। সেদিন আব্দুর রউফের আত্মত্যাগে তাঁর কোম্পানির প্রায় ১৫০ জন মুক্তিযোদ্ধার জীবন রক্ষা পায়।



নূর মোহাম্মদ শেখ (ফেব্রুয়ারি ২৬, ১৯৩৬ - সেপ্টেম্বর ৫, ১৯৭১)


                                                      

শেখ, বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ (১৯৩৬-১৯৭১ পূর্ব পাকিস্তান রাইফেলসের ল্যান্স নায়েক, শহীদ মুক্তিযোদ্ধা। নূর মোহাম্মদ শেখ নড়াইল জেলার মহিষখালি গ্রামে ১৯৩৬ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি জন্মগ্রহণ করেন। শৈশবে পিতৃমাতৃহীন অবস্থায় আর্থিক সংকটের ফলে তিনি পৈতৃক জমিজমা বিক্রি করে ফেলেন। পরে তিনি স্থানীয় আনসার বাহিনীতে যোগ দেন। ১৯৫৯ সালের ১৪ মার্চ তিনি পূর্ব পাকিস্তান রাইফেলস্- যোগ দেন। প্রশিক্ষণ শেষে তাঁর পোস্টিং হয় দিনাজপুর সেক্টরে। ১৯৬৫ সালে পাক-ভারত যুদ্ধে তিনি দিনাজপুর সেক্টরে যুদ্ধে আহত হন। যুদ্ধে তাঁর বীরত্বের স্বীকৃতি স্বরূপ সরকার তাঁকেতমগা--জংসিতারা--হরবপদকে ভূষিত করে। ১৯৭০ সালের আগস্ট মাসে তিনি যশোর সেক্টর হেডকোয়ার্টারে বদলি হন।

১৯৭১ সালের মার্চ মাসে গ্রামের বাড়িতে ছুটি কাটাতে এসে নূর মোহাম্মদ মুক্তিবাহিনীতে যোগ দেন। মুক্তিযুদ্ধে তিনি যশোর নং সেক্টরে যুদ্ধরত ছিলেন। একটি স্থায়ী টহল-দলের নেতৃত্বে দায়িত্ব পালনকালে সেপ্টেম্বর পাকসেনারা মুক্তিবাহিনীর প্রতিরক্ষা ঘাঁটির তিন দিকে অবস্থান নেয় এবং অতর্কিতে টহল-দলটিকে ঘিরে ফেলে। নূর মোহাম্মদের নেতৃত্বে টহল-দলটি পাকসেনাদের আক্রমণ প্রতিহত করে। এই যুদ্ধে তিনি শহীদ হন। তাঁর সহযোদ্ধারা তাঁর মৃতদেহ উদ্ধার করে সীমান্তবর্তী কাশীপুরে সমাহিত করে। মুক্তিযুদ্ধে তাঁর বীরত্ব আত্মত্যাগের স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলাদেশ সরকার তাঁকেবীরশ্রেষ্ঠখেতাবে ভূষিত করে।  [মোঃ সিদ্দিকুর রহমান] তথ্য প্রাপ্তি (বাংলাপিডিয়া)

এই হল আমাদের  ৭ জন বীর। যারা আমাদের অহংকার ,গর্ব , অনুপ্রেরনা.।।

আসুন তাহের মত দেশ কে ভালবাসি দেশের জন্য কাজ করি দেশ কে সুন্দর করি।

লেখক

জ্ঞান অন্নেষী



চতুর্থ মাত্রায় ভ্রমণ - পদার্থবিজ্ঞানী স্টিফেন হকিং

জগদ্বিখ্যাত পদার্থবিজ্ঞানী স্টিফেন হকিং আজ বুধবার মারা গেছেন। তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৬ বছর। ব্ল্যাকহোল বা কৃষ্ণগহ্বর ও আপেক্ষিকতা নিয়ে গবেষণার জন...